মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮:৩৬ am

‘ভোর আসছে’

‘ভোর আসছে’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা ডা. পিটার সিঙ্গার

মহামারির তৃতীয় ঢেউয়ের পীড়ন সইতে হচ্ছে কানাডাকে। কয়েক হাজার প্রাণ এরই মধ্যে নিভে গেছে। এমন অবস্থায় কানাডিয়ানদের প্রতি বার্তা পাঠিয়েছেন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা ডা. পিটার সিঙ্গার। বার্তায় কানাডিয়ানদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘ভোর আসছে’।

ডা. পিটার সিঙ্গারের বার্তাটি এমন সময় এল যখন কানাডায় সংক্রমিতের সংখ্যা আকাশচুম্বি। মধ্য এপ্রিলেই দৈনিক সংক্রমণ ৯ হাজারের ওপরে পৌঁছে গেছে। অন্টারিওকে এখন তৃতীয় ঢেউ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। দৈনিক সংক্রমণ রেকর্ড ভাঙায় আইসিইউয়ের সক্ষমতাও সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। 

এ ব্যাপারে ডা. পিটার সিঙ্গারের মন্তব্য, ভোরের আগের নিকশ আঁধার এখন। কানাডা যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছে সে ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন নেই। এখানকার বহু মানুষ ভুগছেন। গত ১০০ বছরের মধ্যে এই মহামারি সবচেয়ে বড় বৈশি^ক স্বাস্থ্য সংকট। স্বাভাবিকভাবেই এটা কঠিন সময়। কিন্তু ভোর আসছেই।

সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি এগিয়ে নিতে হচ্ছে কানাডাকে। শুক্রবার পর্যন্ত ১ কোটি ১০ লাখ কানাডিয়ানকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এই বার্তা যখন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দিচ্ছিলেন তখন আরেকটি তথ্যও তারা উল্লেখ করছিলেন এবং তা হলো গত কয়েক মাসে ন্যাশনাল ডিজিজ ও সিভিয়ারিটি ইনডিকেটরগুলো বেড়ে গেছে। 

তবে একটা ভালো সংবাদও এদিন কানাডিয়ানদের শুনিয়েছেন দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। প্রধান জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তেরেসা ট্যাম এদিন বলেন, কানাডার সবচেয়ে বেশি সংক্রামক এলাকাগুলোতে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের ফলে রিপ্রোডাক্টিভ রেশিও একের নিচে নেমে এসেছে। এর অর্থ হলো বেশ কয়েক সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো সংক্রমণের বৃদ্ধি স্তিমিত হয়ে এসেছে। 

অধিক সংখ্যায় কানাডিয়ান যেহেতু ভ্যাকসিন নিচ্ছেন তাই মধ্য জুলাই নাগাদ অর্থনৈতিক কর্মকা- পুনরায় শুরু হতে পারে বলে জানান ডা. তেরেসা ট্যাম। তবে এটাও অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। যেমন ভ্যারিয়েন্ট, ভ্যাকসিন গ্রহণ ও জনস্বাস্থ্য বিধিগুলো চলা। 

ডা. পিটার সিঙ্গার একে দেখছেন সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে আলো হিসেবে। তিনি বলেন, ভ্যাকসিনেশনের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য বিধিবিধান পরিপালনের অর্থ হলো মহামারি একদিন শেষ হবে। 

Comments