মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮:৩৪ am

ভ্যাকসিন নেয়ার পর...

ভ্যাকসিন নেয়ার পর...

এক কোটির বেশি কানাডিয়ান এরই মধ্যে অন্তত এক ডোজ ভ্যাকসিন নিয়ে ফেলেছেন। বলা যায়, কানাডার মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ ভ্যাকসিন পেয়েছেন। অনেকেই ভাবছেন, এবার বোধহয় বন্ধুদের সঙ্গে জমায়েত ও পিতামহ-মাতামহকে আলিঙ্গন করা যায়। যদিও বিশেষজ্ঞদের আর্জিÑ ‘ধৈর্য্য ধরুন’। 

ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ক্লিনিক্যাল রিসার্চ এথিকস বডির চেয়ারম্যান ড. স্টিফেন হপশন কান বলেন, আমরা সবাই জানি যে, প্রথম ডোজের ভ্যাকসিনও ভালো সুরক্ষা দেয়। কিন্তু তারপরও চারপাশে অনেক নতুন ভ্যারিয়েন্ট ছড়াচ্ছে। প্রত্যেকটি নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে এটা কতটা সুরক্ষা দেয় সে ব্যাপারে সত্যিই আমরা জানি না। 

তাহলে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর অন্য আর কী আমরা করতে পারি? ফেডারেল সরকার বলছে, কিছুই না; অন্ততঃপক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ভ্যাকসিনেশনের আওতায় না আসা পর্যন্ত।

প্রথম ডোজের পর যেসব কানাডিয়ান এখন দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা কি করতে পারবেন আর কি পারবেন না সে ব্যাপারে কোনো সুপারিশ এখনও হালনাগাদ করেনি হেলথ কানাডা। তবে ফেডারেল সরকার এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান পুরোপুরি খোলাসা করে দিয়েছে। তারা বলেছে, ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে যা যা করছিলেন এখনও তাই তাই করুন এবং জনস্বাস্থ্য বিধিগুলো মেনে চলুন।

এমনকি গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডাও এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান পরিস্কার করেছে। তারা বলেছে, দেশের সীমান্ত অতিক্রমের সময় ভ্যাকসিন গ্রহীতারা আলাদা কোনো সুবিধা পাবেন না। আর হেলথ কানাডার ওয়েবাইটে বলা হয়েছে, সবাই আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি, যখন সবাই একত্রিত হতে পারব। ততদিন পর্যন্ত আমাদের প্রত্যেককেই একে অপরকে রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে তাদেরকে যারা এখনও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এটা ভিন্ন। ইউএস সেন্টার অর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন গত ২ এপ্রিল ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের জন্য নীতিমালা হালনাগাদ করেছে। সেখানে দুই ডোজ ভ্যাকসিনই যারা নিয়ে নিয়েছেন তাদের ভ্রমণশেষে পরীক্ষা বা কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছে। দেশ ছাড়ার আগেও কোভিড পরীক্ষার দরকার হবে না তাদের। ভ্যাকসিন গ্রহীতা অন্যদের বাড়িতে নির্বিঘেœ তারা যেতে পারবেন এবং এজন্য মাস্ক পরিধান বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়োজন নেই।

তাহলে কানাডা কেন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করছে না?

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু স্কুল অব ফার্মেসির সহযোগী অধ্যাপক কেলি গ্রিনডর্ড এর উত্তরে বলেন, কানাডার অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ আলাদা। এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন পেয়েছেন তিন শতাংশেরও কম কানাডিয়ান। তাদেরও অধিকাংশ আবার স্বাস্থ্যকর্মী। সিডিসির নীতিমালা আমাদের এখানে প্রযোজ্য না হওয়ার এটা আংশিক কারণ। অর্থাৎ এক নৌকার যাত্রী নই আমরা। আমরা চেষ্টা করছি অন্তত এক ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহীতার সংখ্যা দ্বিগুন করতে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন থাকায় জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশকে তারা ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনতে পেরেছে। 

Comments