শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ৫:৪০ am

ভ্যাকসিনের জন্য সানোফিকে ৪৭ কোটি ডলার দিচ্ছে সরকার

ভ্যাকসিনের জন্য সানোফিকে ৪৭ কোটি ডলার দিচ্ছে সরকার

ছবি/সানোফি

ভবিষ্যতে মহামারি দেখা দিলে ভ্যাকসিনের জন্য যাতে বিদেশি সরবরাহকারীদের মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে না হয় সেজন্য ফরাসী ভ্যাকসিন উৎপাদক সানোফিকে ৪৭ কোটি ডলার দিচ্ছে ফেডারেল ও অন্টারিও সরকার। এই অর্থে ২০২৬ সালের মধ্যে সানোফি নর্থ ইউর্কের সাবেক কনোট ল্যাবরেটরির স্থানে ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন উৎপাদনের একটি কারখানা করবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, কাজ শেষ হলে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মহামারি ইনফ্লুয়েঞ্জা স্ট্রেইন সনাক্ত করার ছয় মাসের মধ্যে নতুন কারখানাটি কানাডার সমগ্র জনগোষ্ঠীকে প্রদানের মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষম হবে।

ফেডারেল অবকাঠামো মন্ত্রী ফ্রাসোয়াঁ-ফিলিপ শ্যাম্পেইন বলেন, বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারি থেকে যদি আমরা শিক্ষঅ নিই তাহলে পরবর্তী ফ্লু মহামারি আসার আগেই আমাদেরকে ভ্যাকসিনে স্বয়ম্ভর হতে হবে। কানাডায় আমাদের শক্তিশালী বায়োমেডিসিন খাত গড়ে তোলা দরকার। সেটা হলে বলতে পারব যে, জাতি হিসেবে আমরা প্রস্তুত। 

সানোফির কনোট ক্যাম্পাসটি ছিল পোলিও, ডিপথেরিয়া ও স্মলপক্সের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা এবং তা উৎপাদনের সরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রোগ্রেসিভ কনজার্ভেটিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রী ব্রায়ান মালরনি ১৯৮৯ সালে একটি ফরাসী ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি বিক্রির অনুমোদন দেন। বিক্রি করে দেওয়ার সময় এটি ছিল ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী বিশে^র সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান। কনোট ল্যাবরেটরিজকে সরকার নতুন জীবন দিতে যাচ্ছে বলে জানান শ্যাম্পেইন। 

সানোফির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ৪১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে ফেডারেল সরকার। প্রকল্পটিতে অন্টারিও সরকার বিনিয়োগ করবে ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া ৪৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে সানোফি। সেই সঙ্গে তারা কানাডায় ১৬৫টি নতুন কর্মসংস্থান করবে এবং এক হাজার ১০০ কর্মসংস্থান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি কানাডিয়ান রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টেও প্রতি বছর ৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে কোম্পানিটি। 

প্রকল্পটিকে তার ও ট্রুডো সরকারের মধ্যে সহযোগিতার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় ভ্যাকসিন নিয়ে সবাই দারুণ কাজ করছে।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদনে মার্কিন ওষুধ কোম্পানি নোভাভ্যাক্সের সঙ্গে যৌথভাবে প্ল্যান্ট তৈরির চেষ্টা করছে ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল। যদিও ২০২১ সালের শেষ দিক ছাড়া সেটি সম্ভব হচ্ছে না। 

 

Comments