রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ১:৪৮ am

মানবপাচার রোধে অন্টারিও সরকারের নতুন আইন

মানবপাচার রোধে অন্টারিও সরকারের নতুন আইন

অন্টারিও প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড

মানবপাচার রোধে নতুন আইনের ঘোষণা দিয়েছে অন্টারিও সরকার। আইনটির কেন্দ্রে আছে নির্যাতিত শিশুদের সুরক্ষা ও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বাড়তি ক্ষমতা প্রদান।
কুইন’স পার্কে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড বলেন, মানবপাচার বিরোধী কৌশল প্রণয়নে এর আগে সরকার যে ৩০ কোটি ৭০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে, তার ওপর ভিত্তি করেই নতুন এ আইন। সমগ্র কানাডায় এ ধরনের আইন এটাই প্রথম। নতুন এ আইন এবং বিদ্যমান আইনের সংশোধনী মানবপাচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ভূক্তভোগীদের সুরক্ষা ও সহায়তা এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সাহায্য করবে।
জাতীয় মানবপাচার সচেতনতা দিবসে ডগ ফোর্ড যখন এসব কথা বলছিলেন তখন তার পাশে ছিলেন সলিসিটর জেনারেল সিলভিয়া জোন্স এবং নারী ও শিশু বিষয়ক সহযোগী মন্ত্রী জিল ডানলপ। ডগ ফোর্ড এ সময় বলেন, মানবপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা জঘন্যতম। তরুণ ও ভঙ্গুর মানুষদের শিকারে পরিণত করে তারা।
২০১৯ সালে কানাডায় সবচেয়ে বেশি মানবপাচারের ঘটনা পুলিশের তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়েছে অন্টারিওতে। অর্থাৎ প্রদেশটি মানবপাচারের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন ডগ ফোর্ড।
বিদ্যমান দুটি আইনে সংশোধনীর পাশাপাশি আরও দুটি নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণা প্রথম দেওয়া হয় ২০১৭ সালে। এর মধ্য দিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন সূচিত হবে। যেমন নির্যাতিত শিশুদের রিক্ষায় তাদের সহায়তাকারী সমাজ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতা বাড়বে। ভূক্তভোগীর অবস্থান চিহ্নিতকরণ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোর ক্ষমতা পাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। একই সাথে হোটেলের অতিথি নিবন্ধন খাতায় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা কীভাবে এবং কখন প্রবেশ করতে পারবেন, এ পরিবর্তনের মাধ্যমে সেটিও খোলাসা করা হবে।
এসব পরিবর্তন পাশ হলে পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধারকৃতদের সহায়তা, শিশু ও তরুণদের সুরক্ষা এবং বাবা-মা ও কমিউনিটি অংশীদারদের মধ্যে সচেতনা তৈরির পাশাপাশি অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠা পাবে বলে জানান সলিসিটর জেনারেল সিলভিয়া জোন্স। আর মানবপাচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে অন্টারিও সরকারের প্রস্তাবিত আইনটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মন্তব্য করেছেন অন্টারিও অ্যাসোসিয়েশন অব চিলড্রেন’স এইডস সোসাইটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিকোল বনি।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মানবপাচারের শিকার ৭০ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। যৌন কাজে পাচারের জন্য যাদের সংগ্রহ করা হয় তাদের গড় বয়স ১৩ বছর।
জিল ডানলপ বলেন, জঘন্য এ অপরাধ কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আমাদের শিশু ও তরুণদের এ থেকে সুরক্ষা দিতে যা করণীয় আমরা তা কতে যাচ্ছি। এছাড়া পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধারকৃত ও অন্য ভূক্তভোগীদের স্বাভাবিক হতে প্রয়োজনীয় সহায়তাও আমরা দেব।
 



Comments