শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ৪:২৩ am

চিঠি পাঠাচ্ছে রাজস্ব কানাডা

চিঠি পাঠাচ্ছে রাজস্ব কানাডা

কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি যে সকল কানাডিয়ান পেয়েছেন, গত সোমবার থেকে রাজস্ব সংস্থা তথা কানাডা রেভিনিউ এজেন্সি তাদের কাছে ‘টি৪এ’ স্লিপ পাঠানো শুরু করেছে, যাতে তারা এ বছর টেক্স ফাইলের সময় সরকারের কাছে রাজস্ব খাতে বিষয়টি পরিপূর্ণ অর্থে তুলে ধরতে সক্ষম হয়। অবশ্য সংস্থাটির ভাষায়, এই ‘টি৪এ’ স্লিপ পাঠানোর অর্থ এটা নয় যে তারা রাজস্ব কানাডার কাছে দেনায় রয়েছেন, বরং তা তাদের অর্থ উপার্জনের বিবরনী হিসেবে গণ্য হবে। 

সাধারণ অর্থে, ‘টেক্স সিজনে’ এই ‘টি৪’ কোনো কর্মদাতা তার কর্মচারিকে উপার্জনের বিবরনী হিসেবে প্রদান করে থাকেন। তবে ‘টি৪এ’ হচ্ছে, কোভিড-১৯ চলাকালীন যে আর্থিক সহায়তা বা সুবিধাদি কেন্দ্রীয় বা ফেডারেল সরকার জনগণকে দিয়েছে, সেক্ষেত্রে করারোপযোগ্য আয় কিভাবে বিবেচিত হয়েছে, তা বর্ণিত হয়েছে। একমাত্র ক্যুইবেক প্রদেশে বসবাসকারী জনসাধারণের ক্ষেত্রে তারা একই সঙ্গে ‘টি৪এ’ ও ‘আরএল-১’ স্লিপটি পাবেন। 

এখন এই ‘টি৪এ’ স্লিপে ‘কানাডা ইমার্জেন্সি রেসপন্স বেনিফিট (সিইআরবি)’, ‘কানাডা ইমার্জেন্সি স্টুডেন্ট বেনিফিট (সিইএসবি)’, ‘কানাডা রিকোভারি বেনিফিট (সিআরবি)’, ‘কানাডা রিকোভারি সিক্নেস বেনিফিট (সিআরএসবি)’ ও ‘কানাডা রিকোভারি কেয়ারগিভিং বেনিফিট (সিআরসিবি) মিলিয়ে একজন কতো করারোপিত অর্থ উপার্জন বা সহায়তা পেয়েছেন, সেটি বিশদ বর্ণিত থাকবে, যা ওই পত্র প্রাপক তার টেক্স ফাইলিংয়ের সময় অবশ্যই বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করবেন।

এতে যারা ২০২০ সালে ওই সকল সুবিধা কার্যক্রমের অধীনে যে কোনো একটি থেকে অর্থ সহায়তা পেয়েছেন, সেটা তাদের টেক্স ফাইলিংয়ের লাইন ১৩০০০-এ সেটা উল্লেখ করতে হবে। আর যারা ‘নেটফাইল সার্টিফাইড’ সফট্ওয়্যারে ‘মাই একাউন্ট’-এর মাধ্যমে টেক্স ফাইল করবেন, সেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেখানে পূরণ হয়ে যাবে। 

রাজস্ব কানাডার মতে, ‘সিআরবি’, ‘সিআরএসবি’ ও ‘সিআরসিবি’র ক্ষেত্রে করারোপ করা না হলেও ‘সিইআরবি’ ও ‘সিইএসবি’র উপর করারোপ করা হয়েছে। এতে টেক্স ফাইলিংয়ের সময় সকল আয়, ব্যয় ও উপযোগ অর্থাৎ ইনকাম, ডিডাকশনস ও ক্রেডিট গণনার পর করারোপ হয়েছে কি নেই, এমন পরিস্থিতি হওয়া সত্ত্বেও দেখা যাবে অনেককেই কর দিতে হচ্ছে। এ বিষয়ে গত মাসে কর্মসংস্থান মন্ত্রী কার্লা কোয়াল্টরো মিডিয়াকে বলেছেন, ‘এটা অনেককেই অসুবিধায় ফেলবে এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাকেই জটিলতর করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনসাধারণ যখন টেক্স ফাইল করবে, তখন তারা কি পরিস্থিতির মুখোমুখি সেটা উন্মোচিত হবে; অর্থাৎ তারা কোথায় কর দিতে বাধ্য হচ্ছেন এবং কোথায় কর নেই, সবই পরিস্কার হয়ে যাবে। কেউ ‘সিইআরবি’ ও ‘সিআরবি’ যুগপৎ গ্রহণ করে থাকলে, সেক্ষেত্রে ‘সিআরবি’র জন্য কর মওকুফ হলেও ‘সিইআরবি’র জন্য কর দিতে হবে, সেজন্য সেটা কিছুটা জটিল।’ 

এমন পরিস্থিতিতে, বিশেষত করোনা মহামারিতে জনগণের আর্থিক দুর্গতি বিবেচনায় রাজস্ব কানাডার বক্তব্য হচ্ছে, যারা দেনা কর পরিশোধের ক্ষেত্রে কি ধরণের সুবিধা প্রাপ্তির উপযোগি, সেটা সরাসরি যোগাযোগে জেনে নিতে পারেন।

গত মাসে রাজস্ব কানাডা ৪ লাখ ৪১ হাজার কানাডিয়ানকে ‘কানাডা ইমারজেন্সি রেসপন্স বেনিফিট’, সংক্ষেপে ‘সিইআরবি’ সংক্রান্ত তাদের ভাষায় ‘এডুকেশন লেটার্স’ বা শিক্ষণীয় সতর্ক পত্র দিয়েছে। এতে দৃশ্যত, এই সকল পত্রপ্রাপ্ত নাগরিকরা সম্ভবত ওই সুবিধা প্রাপ্তির উপযুক্ত নন। এ বিষয়ে সিআরএ মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই শিক্ষণীয় সতর্ক পত্রের অর্থ হচ্ছে, কানাডার জাতীয় রাজস্ব সংস্থাটি ‘আদৌ নিশ্চিত নয় যে ২০১৯ সালে চাকুরি কিংবা আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে তারা নিদেনপক্ষে ৫ হাজার ডলার আয় করেছেন কিনা, অথবা তাদের ওই আবেদনের ১২ মাস আগে ওই আয় ছিল কিনা’, যা ‘সিইআরবি’ সুবিধা প্রাপ্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে গণ্য হয়েছে। তাতে গত কয়েক সপ্তাহে অনেক কানাডিয়ানই জানিয়েছেন, তারা তেমন পত্রটি পেয়েছেন এবং সেজন্য তারা আতঙ্কিত এই ভেবে যে, আদৌ তারা ওই অর্থ ফেরত দিতে পারবেন কিনা। 

ওই বিপুল সংখ্যক পত্র সহজেই বলে দেয় এই সমস্যাটি কতোটা সুগভীর ও বৃহৎ আকারে আর্বিভূত। ফেডারেল সরকারের তথ্য মতে, ৮৯ লাখ কানাডিয়ান সিইআরবি’র জন্য আবেদন করেছেন। দৃশ্যত তাতে ৫ শতাংশ সুবিধাভোগী ওই পত্রটি পেয়েছেন, যারা আবেদনের যোগ্য ছিলেন না এবং এখন সুবিধাপ্রাপ্তির ডলারগুলো ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন।

তথাপি ওই সুবিধাভোগীদের অনেকেই আবার যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, ফেডারেল সরকার সেই ৫ হাজার ডলার আয়ের হিসেবটি কিভাবে করতে হবে, তা পরিস্কার করে জানায়নি। এতে ‘সিইআরবি’ আবেদনের ক্ষেত্রে প্রশ্ন ছিল, ‘কর প্রদানের আগে গত ১২ মাসে নিদেনপক্ষে ৫ হাজার ডলার আয় ছিল কিনা, অথবা সেই অংকটা ২০১৯ সালে উপার্জন হয়েছিল কিনা’, কিন্তু সেখানে ব্যয় কর্তনের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। এতে কর্মসংস্থান মন্ত্রী কার্লা কোয়াল্টরো ভাষায়, ‘আমরা সিইআরবি’র দেনা মওকুফে মোটেও সম্মত নই; কিন্তু জনগণের এই বিভ্রান্তি প্রশমনে কতোটা স্বচ্ছ হতে পারি, সেটা আমরা বিবেচনায় নিয়েছি।’

 

 

 

Comments