বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ৪:৫২ pm

এক সপ্তাহে লং-টার্ম কেয়ার হোমের ৭১ জন বাসিন্দার মৃত্যু

এক সপ্তাহে লং-টার্ম কেয়ার হোমের ৭১ জন বাসিন্দার মৃত্যু

বাংলামেইল ডটকম ডেস্ক

কোভিড-১৯ মহামারির প্রথম ঢেউয়ের বড় আঘাত এসেছিল কানাডার লং টার্ম কেয়ার হোমগুলোয়। এসব কেয়ার হোমের বাসিন্দাদের মধ্যে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ও মৃত্যু আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় তাদের রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন অন্টারিওর প্রাদেশিক কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্রিস্টিন এলিয়ট শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত সপ্তাহেই প্রদেশের লং-টার্ম কেয়ার হোমের ৭১ জন বাসিন্দা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাদের রক্ষায় আমরা বড় ধরনের বিনিয়োগে যাচ্ছি। এর অংশ হিসেবে কেয়ার হোমের কর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ (পিপিই) নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর বাসিন্দারা যাতে বাইরের কারও দ্বারা সংক্রমিত না হন সেদিকে নজর রাখা হবে। এছাড়া কেয়ার হোমের কর্মী ও বাসিন্দাদের নিয়মিত ভিত্তিতে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হবে।

এগুলো অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আরও কিছু পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা কিছু র‌্যাপিড টেস্টও চালু করতে যাচ্ছি, যাতে করে কেয়ার হোমের বাসিন্দাদের সঙ্গে কেউ দেখা করার আগে নিশ্চিত হতে পারেন যে তারা নিরাপদ এবং তাদের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই। 

কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে লং-টার্ম কেয়ার হোমগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তা মোকাবেলা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্টারিওর ৯৩টি লং-টার্ম কেয়ার হোমের বহু বাসিন্দা এরই মধ্যে নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্তও হয়েছেন। 

মহামারির প্রথম ঢেউ চলাকালে অন্টারিওতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের ৬২ শতাংশ ছিলেন লং-টার্ম কেয়ার হোমের বাসিন্দা। গ্রেটার টরন্টো এরিয়ায় কয়েক ডজন কেয়ার হোমে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ দেখা গেছে। এসব কেয়ার হোমের অনেকগুলোতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষজন বাস করেন।

টরন্টোর মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের চিকিৎসক নাথান স্টল অভিযোগ করে বলেন, মহামারির প্রথম পর্যায়ে প্রাদেশিক সরকার কেয়ার হোমের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউয়েও তাদেরকে রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে পরিস্থিতি যেভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে তাতে করে আমরা শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। 

Comments