বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ৪:৫৮ pm

কুইবেকে এই শীতে বন্ধই থাকছে স্কুল

কুইবেকে এই শীতে বন্ধই থাকছে স্কুল

বাংলামেইল ডটকম ডেস্ক

কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ রোধে এই শীতে স্কুল বন্ধ রাখতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন কুইবেকের প্রিমিয়ার ফ্রাঁসোয়া লেগু। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, স্কুল ও কর্মক্ষেত্রেই সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। 

সিবিসিকে কুইবেকের প্রিমিয়ার বলেন, গত বসন্তেই শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে স্কুলের অনেকগুলো দিন হারিয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের ভাবতে হবে সংক্রমণের ঢেউ কীভাবে থামানো যায়, তা নিয়ে। 

তবে স্কুলে ছুটি বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা করতে হবে বলে খোলাসা করেন প্রিমিয়ার লেগু। তিনি বলেন, সংক্রমণ থামাতে এটাই শেষ সুযোগ এবং এ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এখন পর্যন্ত। কোভিড-১৯ সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সারাবিশে^ই আঘাত হানতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও ব্যাপক হারে সংক্রমণও হচ্ছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি যাতে নাগালের বাইরে চলে না যায় সেজন্য সরকারকে সব ধরনের উপায় খুঁজে দেখতে হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে স্কুলগুলো সুনির্দিষ্ট কিছু সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখার পরিকল্পনা আছে আমাদের। হয়তো সেটা একমাস (হলিডেসহ) হতে পারে। এটা অবশ্য কমতে বা বাড়তে পারে।  

স্কুলগুলোতে অপর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ও ফিলট্রেশন ব্যবস্থা নিয়ে বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় প্রিমিয়ার লেগুকে। তবে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে লেগু জানান, স্কুলে উচ্চ হারে সংক্রমণের পেছনে ভেন্টিলেশন কোনোভাবেই দায়ী নয়। তারপরও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

হলিডের পরও স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়ে যে কথাবার্তা চলছে তাকে সঠিক বলেই মনে করেন মন্ট্রিয়ল বিশ^বিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথের অধ্যাপক বেনোইত মাসে। তিনি বলেন, করনোভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অনেক ধরনের বিধিনিষেধ এরই মধ্যে আরোপ করা হয়েছে। বাকি আছে কেবল কর্মক্ষেত্রে ও স্কুল। সংক্রমণ কমিয়ে আনতে এগুলো বন্ধ রাখা যেতে পারে। 

প্রিমিয়ার লেগু সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আমাদের এখানেও কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে, যাতে করে প্রতিটি মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া ও জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়।

কুইবেকে গত বৃহস্পতিবার নতুন করে ১ হাজার ৩৬৫ জন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪২ মারা গেছেন। আর সংক্রমণের প্রথম দিন থেকে এ পর্যন্ত প্রদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯৪। এর মধ্যে মারা গেছেন ৬ হাজার ৫৫৭ জন। গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৭০০ এর বেশি মানুষ।

 

Comments