Sat 28th Nov 2020, 2:35 am

বাইডেনের জয়ে কানাডার লাভ-ক্ষতির হিসাব

বাইডেনের জয়ে কানাডার লাভ-ক্ষতির হিসাব

বাংলামেইল ডটকম ডেস্ক

প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের জয়লাভ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, কানাডার রাজনীতি ও নীতি কৌশলের জন্যও গুরুত্ববহ। এই গুরুত্ব বুঝতে হলে পাঁচটি ক্ষেত্রে বিশেষভাবে চোখ রাখতে হবে। তাহলে দেখে নেওয়া যাক ক্ষেত্রেগুলো কী।
২০১৬ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তিতে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জো বাইডেন। পাশাপাশি বাইডেনের অভ্যন্তরীণ জলবায়ু নীতিও কানাডার জন্য আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিতে পারে। এর ফলে কানাডার পরিচ্ছন্ন জ¦ালানি প্রযুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজার খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিলেন, শেষ পর্যন্ত যা অভিবাসীদের কানাডা অভিমুখী করতে ভূমিকা রাখে। সেফ থার্ড পার্টি কান্ট্র্রি এগ্রিমেন্টের ফাঁক গলে অনিয়মিতভাবে কানাডায় ঢুকে পড়া আশ্রয়প্রার্থীরাও রয়েছেন তাদের মধ্যে। কানাডা চুক্তিটি নিয়ে পুনঃআলোচনার চেষ্টা করছে এবং বাইডেনকে এক্ষেত্রে সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে এবারের মার্কিন নির্বাচন। অটোয়া এক্ষেত্রে সফল হলে কানাডা অভিমুখী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ¯্রােত কমে আসতে পারে। গত চার বছরে ট্রাম্পের নানা পদক্ষেপ নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার সুযোগকে কঠিন করে তোলে। এর ফলে কানাডায় দক্ষ কর্মীদের আগমন বেড়ে যায়। ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপ উল্টে দিতে পারেন জো বাইডেন। সেটা হলে অনেক দক্ষ কর্মী কানাডা ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে পারেন, কানাডার জন্য যা স্বস্তির হবে না।
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য সম্পর্ক একটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে ২০১৮ সালে যে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেন বাইডেন হোয়াইট হাউজে প্রবেশের পর তার ইতি টানতে পারেন বলে আশা ধারণা করা হচ্ছে। তবে জো বাইডেন নিজেও এখন পর্যন্ত ‘বাই আমেরিকান’ এর মতো সংরক্ষণবাদী নীতির পক্ষে কথা বলছেন। এই নীতিতে যদি তিনি অনড় থাকেন সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য ও মিউনিসিপাল পর্যায়ের অবকাঠামো প্রকল্পের কাজে কানাডার কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা করার সুযোগ সীমিতই থাকবে।
নির্বাচনের আগে আগে প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যারা ট্রাম্পের হাত ধরে বাড়তে থাকা জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মধ্যেও বহপাক্ষিক মূল্যবোধের পক্ষে সোচ্চার। অন্যান্য পশ্চিমা নেতাও হয়তো বাইডেনকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা যেমন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ও ন্যাটোর সহযোগী হিসেবে দেখতে পাবেন। মনে করা হয়ে থাকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সামরিক জোটটি (ন্যাটো) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পথে ছিলেন। এমনটা হলে জোটটির ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়তো নিঃসন্দেহে। কিন্তু বাইডেন শিবির ন্যাটোয় যুক্তরাষ্ট্রের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার পক্ষে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউজ ছাড়ার কয়েক মাস আগে কানাডার হাউজ অব কমন্সে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। ওবামার ওই বক্তৃতাকে প্রগতিশীল রাজনীতির দায়িত্বটা ট্রুডোর হাতে হস্তান্তর হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। জো বাইডেনও সে বছর অটোয়ায় পৃথক বক্তৃতা দেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক উদার নীতিগুলো যাতে সমুন্নত থাকে সেজন্য বিশ^বাসীর ভরসার জায়গা জাস্টিন ট্রুডো। বাইডেনের ফিরে আসা ট্রুডোর এই তারকা দ্যুতিতে ছায়া ফেলবে নিশ্চয়। এর ফলে কানাডায় ট্রুডোর প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিঃশ^াস ফেলার আরও বড় পরিসর পাবে। গ্লোব এন্ড মেইল অবলম্বনে

Comments