Sat 28th Nov 2020, 2:59 am

ট্রুডো বলেছেন, ফাইজারের কোভিড ভ্যাকসিন ‘নিরাশায় আশার আলো’

ট্রুডো বলেছেন, ফাইজারের কোভিড ভ্যাকসিন ‘নিরাশায় আশার আলো’

মোহাম্মদ আলী বোখারী

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, কানাডার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পুর্নরুদ্ধারে ফাইজারের কোভিড-১৯ প্রতিষেধক হবে এক উৎসাহব্যঞ্জক প্রথম পদক্ষেপ। যদি সব কিছু ঠিক থাকে, তবে ২০২১ সালের প্রথম তিন মাসের যে কোনো সময়ে কানাডার জনগণ তা পেতে যাচ্ছে। গত সোমবার সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উই সি দ্য লাইট এট দ্য এন্ড অব দ্য টানেল’। আমরা তা পেতে যাচ্ছি, কেননা আমাদের বিজ্ঞানীরা কঠোর পরিশ্রমে নিয়োজিত।
একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ ওষুধ কোম্পানি ফাইজার বলেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত তাদের ট্রায়াল বা পরীক্ষণ থেকে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে তাদের প্রতিষেধক ৯০ শতাংশেরও বেশি কার্যকর। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজেস-এর পরিচালক ডা. অ্যান্থনি ফাউচি সেই পরীক্ষণ ফলাফলকে ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি’ বা ‘অসাধারণ’ উল্লেখ করে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মর্ডানার উৎপাদিত একই ধরণের প্রতিষেধকের সাফল্যের অনুরূপ সেটি। পক্ষান্তরে ফাইজারের চেয়ারম্যান ও সিইও ডা. আলবার্ট বোরলা’র অভিব্যক্তি হচ্ছে, ‘টুডে ইজ এ গ্রেট ডে ফর সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটি।’
ইতিমধ্যে কানাডা ফাইজারসহ তার জার্মান সহযোগি ‘বায়োএনটেক’-এর কাছে ২ কোটি ‘টু-ডোজ’ বিশিষ্ট ভ্যাকসিনের অর্ডার দিয়ে রেখেছে, যা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান ‘হেলথ্ কানাডা’ কর্তৃক অনুমোদনের সঙ্গে দ্রুত প্রয়োগের জন্য নিয়ে আসা হবে। এক্ষেত্রে ফাইজার গত ৯ অক্টোবর থেকে তাদের ট্রায়াল ডাটা ‘হেলথ্ কানাডা’র কাছে প্রদান করে আসছে। এতে ‘রোলিং রিভিউ’ বা চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় সাধারণভাবে নতুন কোনো ওষুধ প্রচলনের ক্ষেত্রে যে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করা হয়, তা পরিহার করতে হয়েছে। ফলে ওই প্রতিষেধকের নিরাপদ ব্যবহার, ফলপ্রসূতা ও গুনগতমান ‘হেলথ্ কানাডা’ অনুমোদন করা মাত্রই ব্যবহার উপযোগী করা হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো বলেছেন, যেহেতু ফাইজারের সাফল্য উৎসাহব্যঞ্জক, সে কারণে কানাডার জনগণের উচিত হবে করোনা নিয়ন্ত্রণ একটি সহনীয় মাত্রায় বজায় রাখা। তার ভাষায়, ‘অবশ্যই আমাদের দ্বিগুণভাবে সচেতন থাকতে হবে। প্রতিষেধক আসা অবধি সামনের মাসগুলোতে আমাদের করোনা রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, যাতে আমরা কানাডার জনগণকে সুরক্ষায় দ্রুত তৎপর হয়ে উঠতে পারি।’
অপরদিকে ফাইজার বলেছে, সামনের সপ্তাহগুলোতে তারা প্রতিষেধক সংক্রান্ত অপহিার্য উৎকন্ঠাসমূহ বিবেচনায় নেবে, যাতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রতিষেধকের ‘ফাইনাল ডাটা’ বা চূড়ান্ত উপাত্ত জমা দিতে পারে। এখন অবশ্য এ বছর শেষে ফাইজার যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জরুরি প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু মানুষের জন্য প্রতিষেধক উৎপাদন করে দিচ্ছে। এতে তাদের বর্তমান উৎপাদনমাত্রা বিবেচনায় নিয়ে আশা করা হচ্ছে ২০২০ সালের মধ্যে তারা ৫ কোটি ভ্যাকসিন উৎপন্ন করতে সক্ষম হবে।  পাশাপাশি ২০২১ সালের মধ্যে আরও ১০৩ কোটি ডোজ উৎপাদন করবে।
ট্রুডো বলেছেন, ‘এই সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক মাইনাস ৭৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ রাখতে হয়, সে জন্য বিতরণ ব্যবস্থায় কিছুটা জটিলতা রয়েছে। অবশ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় থাকা অপরাপর ভেকসিনগুলোর ক্ষেত্রে এ ধরণের তাপমাত্রা বজায় রাখার অপরিহার্যতাটি নেই।’
কানাডা এখন একমাত্র ফাইজার উৎপাদিত প্রতিষেধকের পাণেই তাকিয়ে আছে। তবে গত অক্টোবরে সরকার ক্যুইবেক সিটি ভিত্তিক বায়োটেক কোম্পানি ‘মেডিকাগো’র কাছ থেকে ৭ কোটি ৬০ লাখ ডোজ সংগ্রহের একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। ওই মেডিকাগো যুক্তরাজ্যের গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের সঙ্গে মিলে অংশীদারিতে একটি প্রতিষেধক উৎপাদনে তৎপর। ওই উভয় কোম্পানির ভাষ্য, তাদের উৎপাদিত ভেকসিন ডোজে ‘হাই লেভেল অব নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডিজ ফলোয়িং এ সিঙ্গল ডোজ’ অর্থাৎ একটি ডোজ দেবার পর তাতে উচ্চমাত্রার রোগ প্রশমন ক্ষমতা বিদ্যমান। বলা হচ্ছে, ফেডারেল সরকার কোভিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে ৭টি কোম্পানি থেকে মোট ৩৫ কোটি ৮০ লাখ প্রতিষেধক সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে কেউ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ব্যর্থ হলে দুর্ভোগে পড়তে না হয়।       

 

 

Comments